এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পণ্যটির বাজারে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ার কারণে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট ও দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
সংস্থাটির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ফলে একদিকে বাজারে জ্বালানিপণ্যটির মূল্য নিয়ে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে অন্যদিকে নতুন এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল তাও পিছিয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এলএনজির যে পরিমাণ জোগান বা সরবরাহ থাকার কথা তার ২০ শতাংশের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এ সংকটের প্রভাবে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
এর আগে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শীতকালীন মৌসুমে এলএনজির বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফেরার একটি ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাণিজ্য আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়েছিল। সে সময় ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানিপণ্যটির মূল্য কমেছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি কার্গো চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।
আইইএ জানায়, মার্চে বিশ্বব্যাপী এলএনজি উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রফতানি কমলেও অন্যান্য অঞ্চলের বর্ধিত উৎপাদন তা পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে পারেনি। যদিও উচ্চমূল্য, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি নীতির কারণে প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় মার্চে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৪ শতাংশ কমেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কাতারের এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়বে। ফলে এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর যে প্রত্যাশা ছিল তা অন্তত দুই বছর পিছিয়ে যেতে পারে। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে বাজারে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ হাজার কোটি ঘনমিটারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যদিও অন্যান্য অঞ্চলের নতুন প্রকল্পগুলো সময়ের সঙ্গে এ ঘাটতি পূরণ করবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান সংকটের কারণে ২০২৬ ও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাজারে এলএনজির সরবরাহ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলমান থাকবে।
আইইএর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে এলএনজি খাতের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বালানিপণ্যটির মূল্যের অস্থিতিশীলতা কমাতে উত্তোলন ও আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।